নিয়তির বিধানতত্ত্ব (বন্টন বা প্রয়োগবাদ) কী? এটি কী বাইবেল সম্মত কোন বিষয়?



প্রশ্ন: নিয়তির বিধানতত্ত্ব (বন্টন বা প্রয়োগবাদ) কী? এটি কী বাইবেল সম্মত কোন বিষয়?

উত্তর:
কোন কিছুকে আদেশ করা বা স্থাপন করাই হচ্ছে বন্টন বা প্রয়োগ- এটি হতে পারে শাসনকাজ, কোন প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি অথবা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কোন বিষয়। ধর্মতত্ত্বে বন্টন বা প্রয়োগ (নিয়তির বিধান) হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্বর্গীয় শাসন কাজ। প্রতিটি বিধানই স্বর্গীয়ভাবে নিয়োগকৃত। বন্টন বা বিধান হচ্ছে একটি ধর্মতাত্ত্বিক পদ্ধতি যা ঈশ্বর কর্তৃক অভিষিক্ত লোকদের চিহ্নিত করে থাকে যারা পৃথিবীতে তাঁর কার্যাবলী সম্পাদন করেন। প্রাথমিকভাবে এর দু’টি স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য রয়েছেঃ ১) পবিত্র শাস্ত্রের পরিবর্তনহীন আক্ষরিক ব্যাখ্যা প্রদান, বিশেষ করে বাইবলে উল্লেখিত ভাববাণীগুলো এবং ২) ঈশ্বরের পরিকল্পনায় থাকা মন্ডলী হতে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে ইস্রায়েলীয়দের প্রতি অভিন্ন দৃষিভঙ্গি প্রদান। সাম্প্রতিককালের প্রয়োগবাদ বা নিয়তিতত্ত্ব মানবজাতির জন্য ঈশ্বরের পরিকল্পনার মধ্যে থাকা সাতটি বিধানের বিষয় চিহ্নিত করে থাকে।

প্রয়োগবাদীরা বা প্রকৃতির বিধানতত্ত্ববিদরা একটি শ্রেষ্ঠ উপায় হিসাবে বাইবেলের আক্ষরিক ব্যাখ্যাকে নিজেদের মধ্যে ধারণ করে থাকেন। আক্ষরিক ব্যাখ্যা আমাদের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দের অর্থ প্রদান করে। এখানে প্রতীক বা নকশা, বক্তৃতার আকার বা সংখ্যা কিংবা এর আলংকারিক বিষয়, এর বিভিন্ন রূপ বা ধরন ইত্যাদির জন্য সুবিধা প্রদান করা হয়ে থাকে। তাই বুঝা যায় যে, প্রতিটি বিষয়ের পিছনে থাকা চিহ্ন বা প্রতীক এবং রূপকার্থক বা আলংকারিক কথাবার্তার আক্ষরিক অর্থ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ আমরা দেখতে পাই যে, পবিত্র বাইবেল যখন প্রকাশিত বাক্য ২০ অধ্যায়ে উল্লেখিত “এক হাজার বছর”-র কথা বলে তখন প্রকৃতির বিধানতত্ত্ববিদরা এটিকে আক্ষরিকভাবে ঠিক এক হাজার বছরের কথাই ব্যাখ্যা করেন (স্বর্গরাজ্যের বিধান); কারণ এটি অন্যভাবে ব্যাখ্যা করার যুক্তিসংগত কোন কারণ নেই।

পবিত্র শাস্ত্র অনুসদ্ধান করার জন্য আক্ষরিক ব্যাখ্যা কেন সবচেয়ে ভাল পদ্ধতি তার পিছনে অন্ততপক্ষে দু’টি কারণ রয়েছে। প্রথমত. দর্শনগতভাবে ভাষার নিজস্ব উদ্দেশ্যই দাবী করে যেন আমরা শব্দগুলো আক্ষরিকভাবে ব্যাখ্যা করি। মানুষ যাতে একে অন্যের সাথে সহজেই তার ভাবের আদান-প্রদান করতে পারে সেজন্যই ঈশ্বর ভাষা দান করেছিলেন। শব্দগুলো হচ্ছে অর্থের আধার বা পাত্র। এর পিছনে উল্লেখিত দ্বিতীয় কারণটিও বাইবেল সম্মত। যীশু খ্রীষ্ট সম্পর্কিত পুরাতন নিয়মে উল্লেখিত সমস্ত ভবিষ্যদ্বাণীই পূর্ণ হয়েছিল। পুরাতন নিয়মে ঠিক যেভাবে যীশুর জন্ম, পরিচর্যা বা সেবাকাজ, মৃত্যু এবং পুনরুত্থান সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল ঠিক সেভাবেই এগুলো বাস্তবায়িত হয়েছিল। এই ভাববাণীগুলো ছিল আক্ষরিক। মশীহ সম্পর্কিত নতুন নিয়মে উল্লেখিত আক্ষরিক নয় এমন ভাববাণীগুলোর কোন বাস্তবায়ন ঘটে নি। এই যুক্তিগুলোর সবই জোরালোভাবে আক্ষরিক পদ্ধতির কথা বলে। শাস্ত্র অধ্যয়নে যদি কোন আক্ষরিক ব্যাখ্যা ব্যবহৃত না হয় তাহলে বাইবেল ভালোভাবে বুঝবার জন্য সেখানে কোন মানসম্মত বিষয় থাকে না। কোন ব্যক্তির দেখবার ক্ষমতা যতটুকু সে ঠিক সেভাবেই বাইবেল ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হবে। বাইবেলসম্মত ব্যাখ্যায় “বাইবেল বলে” এর পরিবর্তে “এই অংশ আমাকে কী বলে” এরূপ হওয়া প্রয়োজন। দুঃখের বিষয় হলো- সাম্প্রতিককালের বাইবেল অধ্যয়নগুলোতে এরূপ অবস্থা বিরাজমান।

প্রয়োগমূলক ধর্মতত্ত্ব বা নিয়তির বিধানতত্ত্ব আমাদের শিক্ষা দেয় যে, ঈশ্বরের কাছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন দুই ধরনের লোক রয়েছে- ইস্রায়েল। এবং মন্ডলী। এরা বিশ্বাস করেন যে, পরিত্রাণ বিষয়টি পুরাতন নিয়মে সব সময় ঈশ্বরে বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে এবং বিশেষ করে নতুন নিয়মে পুত্র-ঈশ্বরে বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়ে থাকে। তারা এই ধারণাও পোষণ করেন যে, ঈশ্বরের পরিকল্পনায় বা তাঁর কর্মসূচীতে মন্ডলী কখনই ইস্রায়েলের স্থানে আসবে না এবং সেজন্য ঈশ্বরও পুরাতন নিয়মে ইস্রায়েলীয়দের কাছে প্রতিজ্ঞা করেন যে, তারা কখনই মন্ডলীতে পরিবর্তীত হবে না। প্রয়োগবাদী বা নিয়তির বিধানতত্ত্ববিদরা শিক্ষা দেন, পুরাতন নিয়মে ঈশ্বর ইস্রায়েলীয়দের কাছে যে সব বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন (ভূমি/দেশ, অসংখ্য সন্তান-সন্ততি এবং আশীর্বাদ) সেগুলো অবশ্যই প্রকাশিত বাক্য ২০ অধ্যায়ে উল্লেখিত এক হাজার বছর সময়কালের মধ্যেই বাস্তবায়িত হবে। তারা আরও বিশ্বাস করেন যে, যেহেতু ঈশ্বর এই যুগে মন্ডলীর প্রতি তাঁর মনোযোগ নিবদ্ধ রাখছেন সেহেতু আগামীতে তিনি তাঁর সমস্ত মনোযোগ ইস্রায়েলের উপরও নিবদ্ধ রাখবেন (রোমীয় ৯-১১ অধ্যায় এবং দানিয়েল ৯:২৪ পদ লক্ষ্য করুন)।

প্রয়োগবাদীরা উপলব্ধি করতে পারেন যে, পবিত্র বাইবেল সাতটি বন্টন বা বিধানের মধ্য দিয়েই কার্যকর হবেঃ নির্দোষিতা বা সরলতা (আদিপুস্তক ১:১-৩:৭ পদ), বিবেক বা চেতনাবোধ (আদিপুস্তক ৩:৮-৮:২২ পদ), শাসন বা সরকার ব্যবস্থা (আদিপুস্তক ৯:১-১১:৩২ পদ), প্রতিজ্ঞাসমূহ (আদিপুস্তক ১২:১-যাত্রাপুস্তক ১৯:২৫ পদ), আইন-কানুন (যাত্রাপুস্তক ২০:১-প্রেরিত ২:৪ পদ), অনুগ্রহ বা দয়া (প্রেরিত২:৪-প্রকাশিত বাক্য ২০:৩ পদ) এবং হাজার বছরের রাজত্ব (প্রকাশিত বাক্য ২০:৪-৬ পদ)। আবারও বলি, পরিত্রাণ বা উদ্ধার পাবার জন্য এই প্রয়োগ বা বিধানগুলো কোন উপায় বা পথ নয়, কিন্তু এগুলো হচ্ছে রীতি বা প্রণালী যার মধ্য দিয়ে ঈশ্বর মানুষের সাথে যোগাযোগ করে থাকেন। বিধিবিধানের মধ্যে বসবাসরাত লোকদের সাথে ঈশ্বর কিভাবে কাজ করেন তার একটি চিহ্নিতকরণ নকশা বা নমুনা প্রতিটি প্রয়োগবিধি বা বিধানের মধ্যে বজায় থাকে। ঐ নমুনা বা নকশাগুলো হলো- ১) দায়িত্ব-কর্তব্য, ২) ব্যর্থতা, ৩) ন্যায়বিচার এবং ৪) অনুগ্রহ।

বন্টন বা প্রকৃতির বিধানতত্ত্ব মতবাদ একটি প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি হিসেবে খ্রীষ্টের দ্বিতীয় আগমনের হাজার বছরপূর্ব রাজত্ব এবং র‌্যাপচার (আকাশে তুলে নেওয়া)-এর মহাকষ্টপূর্ব অবস্থার ব্যাখ্যা প্রদান করে। এটির সারসংক্ষেপ করলে দাঁড়ায় যে, প্রয়োগবাদ বা প্রকৃতির বিধানতত্ত্ব হচ্ছে একটি ধর্মতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া যা বাইবেলের মধ্যে উল্লেখিত ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর আক্ষরিক ব্যাখ্যার উপর জোর দেয়, ইস্রায়েল এবং মন্ডলীর মধ্যকার স্বাতন্ত্র্যতা চিহ্নিত করে এবং ভিন্ন ভিন্ন বিধান বা শাসনের মধ্যে বাইবেলকে সংবদ্ধ বা সংগঠিত করে।



বাংলা হোম পেজে ফিরে যান



নিয়তির বিধানতত্ত্ব (বন্টন বা প্রয়োগবাদ) কী? এটি কী বাইবেল সম্মত কোন বিষয়?