[ভ্রান্ত] ধর্মমত বা ধর্মবিশ্বাসের সংজ্ঞা কী?



প্রশ্ন: [ভ্রান্ত] ধর্মমত বা ধর্মবিশ্বাসের সংজ্ঞা কী?

উত্তর:
লোকেরা যখন “কাল্ট” এই শব্দটি শোনে তখন তারা প্রায়ই এমন একটি দলের বিষয়ে চিন্তা করে যারা শয়তানের উপাসনা করে, পশু উৎসর্গ করে অথবা মন্দ, অদ্ভুত এবং পৌত্তলিক ধর্মীয় রীতি-নীতি বা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে অংশগ্রহণ করে থাকে। যাহোক, প্রচলিত ধর্মমত বা ধর্মবিশ্বাস কদাচিৎ এরূপ বিষয়গুলোর সাথে যুক্ত থাকে। বৃহৎ অর্থে, প্রকৃতপক্ষে এটি হচ্ছে বিশেষ কিছু ধর্মীয় আচার ও রীতির সংমিশ্রণে গঠিত একটি ধর্মীয় পদ্ধতি বা ব্যবস্থা।

সচরাচর অনেক বেশী সংকীর্ণভাবে এই ধর্মমতকে সংজ্ঞায়িত করা হয় এবং এই শব্দটি গোড়া বা মৌলবাদী নয় এমন একটি ধর্মীয় উপদল বা সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করে যাদের সদস্যরা ধর্মের আদি বা মৌলিক মতবাদকে বিকৃত করে থাকে। বিশেষভাবে খ্রীষ্টিয়ান প্রাসঙ্গিকতায় কাল্ট এই ধর্মমতের সংজ্ঞা হলো, “এমন একটি ধর্মীয় দল যারা বাইবেলসম্মত সত্যগুলোর মধ্য থেকে একটি বা আরও বেশ কয়েকটির ভিত্তি বা মৌলিকতাকে অস্বীকার করে।” এই ধর্মমত বা বিশ্বাস এমন একটি দল যারা এই মতবাদগুলো শিক্ষা দেয় যে, কোন লোক বিশ্বাস করলেই যে পরিত্রাণ পায় তার কোন নিশ্চয়তা নেই। অর্থাৎ বিশ্বাস করলেও সে অ-পরিত্রাণপ্রাপ্ত হতে পারে। এই দলটি ধর্মের প্রয়োজনীয় সত্য (সত্যগুলো) অস্বীকার করা সত্ত্বেও তারা ধর্মের একটি অংশ হওয়ার দাবী করে থাকে। অতএব, এই ধর্মীয় দলটি খ্রীষ্টিয়ান হওয়ার দাবী করলেও তারা খ্রীষ্টিয়ান ধর্মের মৌলিক সত্যগুলোর মধ্য থেকে একটি বা আরও কয়েকটি বিষয় সব সময় অস্বীকার করে থাকে।

ভ্রান্ত খ্রীষ্টিয়ান ধর্মমতের খুবই সারাধণ দু’টি শিক্ষা হলো এই যে, যীশু স্বয়ং ঈশ্বর নন এবং পরিত্রাণ বা উদ্ধার কেবলমাত্র বিশ্বাসে অর্জন করা যায় না। খ্রীষ্টের ঈশ্বরত্বকে অস্বীকার করার ফলে এটি পরিলক্ষিত হয় যে, আমাদের পাপের মূল্য পরিশোধের জন্য খ্রীষ্টের মৃত্যুবরণই যথেষ্ট ছিল না। বিশ্বাসে পরিত্রাণ বা উদ্ধার পাওয়া যায়- তাদের শিক্ষার মধ্যে এটি অস্বীকার করার ফলে যা দাঁড়ায় তা হলো- আমরা আমাদের নিজেদের কাজের মধ্য দিয়েই উদ্ধার পেয়ে থাকি। আদি মন্ডলী শুরুর প্রথম বছরগুলোতেও প্রেরিতদের এরূপ অনেক ভ্রান্ত ধর্মবিশ্বাস বা ধর্মমতকে সঙ্গে নিয়ে তাদের কাজ চালিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছিল: উদাহরণস্বরূপ- যোহন তার লিখিত ১যোহন ৪:১-৩ পদে খ্রীষ্টিয়ান রহস্যবাদের শিক্ষার কথা উল্লেখ করেছেন, “যীশু খ্রীষ্ট মানুষ হয়ে এই জগতে এসেছিলেন” (২পদ)। এই ঐশ্বরিক মতবাদের জন্য যোহনের চূড়ান্ত পরীক্ষাটি ছিল আধ্যাত্মিক রহস্যবাদী খ্রীষ্টিয়ান ধর্মমতের সরাসরি বিরোধী একটি বিষয়ের বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ (২যোহন ১:৭ পদ)।

আজকের দিনে যে সব ভ্রান্ত ধর্মমত প্রচলিত আছে তার মধ্যে খুবই সুপরিচিত দু’টি ধর্মীয় সম্প্রদায় হচ্ছে “যিহোবা সাক্ষী” এবং “মর্মন ধর্মমত।” যদিও এই উভয় ধর্মগোষ্ঠী খ্রীষ্টের ঈশ্বরত্ব এবং কেবলমাত্র বিশ্বাসে পরিত্রাণ পাওয়াকে অস্বীকার করে তবু তারা নিজেদের খ্রীষ্টিয়ান বলে দাবী করে থাকে। যিহোবা সাক্ষী ও মর্মনবাদীরা এমন অনেক কিছু বিশ্বাস করে যেগুলো বাইবেলের শিক্ষার সাথে যুক্তিসংগত মিল অথবা সামঞ্জস্যতা আছে। যাহোক, প্রকৃত সত্য এই যে, কাজের মধ্য দিয়েই পরিত্রাণ লাভ করা যায়- তাদের এরূপ ধারণার জন্য তাদের ভ্রান্ত বলে মনে করা হয়ে থাকে। এমন অনেক যিহোবা সাক্ষী, মর্মন ধর্মমতের অনুসারী এবং অন্য ভ্রান্ত ধর্মমতের নীতিবান লোক রয়েছে যারা সত্যিকার অর্থে বিশ্বাস করে যে, তারা আসলে সত্য বিষয়টিই নিজেদের মধ্যে ধারণ করে আছে। খ্রীষ্টিয়ান হিসাবে আমাদের অবশ্যই এই প্রত্যাশা এবং প্রার্থনা হবে- যে সব লোক ভ্রান্ত ধর্মমতের সাথে জড়িত আছে এবং মিথ্যার মধ্যে অবস্থান করছে তাদের সকলেই যেন একমাত্র যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস করার মধ্য দিয়েই যে পরিত্রাণ পাওয়া যায়- এই সত্যের কাছে উপনীত হতে পারে।



বাংলা হোম পেজে ফিরে যান



[ভ্রান্ত] ধর্মমত বা ধর্মবিশ্বাসের সংজ্ঞা কী?