জন্মনিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে বাইবেল কী বলে? খ্রীষ্টিয়ানদের কী জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত?



প্রশ্ন: জন্মনিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে বাইবেল কী বলে? খ্রীষ্টিয়ানদের কী জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত?

উত্তর:
ঈশ্বর মানুষকে এই ক্ষমতা দিয়ে বললেন যে, “মাটি থেকে এমন সব জীবন্ত প্রাণীর জন্ম হোক যাদের নিজের নিজের জাতকে বাড়িয়ে তুলবার ক্ষমতা থাকবে” (আদিপুস্তক ১:২৪ পদ)। ঈশ্বর বিবাহকে একটিটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান হিসাবে স্থাপন করেছেন। দুঃখের বিষয় বর্তমানে কখনও কখনও সন্তানদের অভিশাপ এবং বোঝা হিসাবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। মনে করা হয় যে, তারা লোকদের চাকুরী জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার এবং অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের পথে প্রতিবন্ধক হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে এবং সামাজিকভাবে আমাদের “অবস্থান বা ইমেজকে দুর্বল করে তুলছে।” জন্ম নিরোধক পদ্ধতি ব্যবহারের মূলে প্রায়ই এমন ধরনের স্বার্থপরতা লক্ষ্য করা যায়।

জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের পিছনে অবস্থিত ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার বিপক্ষে বাইবেল সন্তানদের ঈশ্বরের দেওয়া উপহার হিসাবে উপস্থাপন করে (আদিপুস্তক ৪:১; ৩৩:৫ পদ)। ছেলেমেয়েরা হলো প্রভুর কাছ থেকে আসা উত্তরাধিকার (গীতসংহিতা ১২৭:৩-৫ পদ)। ছেলেমেয়েরা হলো ঈশ্বরের দেওয়া আশীর্বাদস্বরূপ (লূক ১:৪২ পদ)। তারা হলো বৃদ্ধ বয়সের মুকুটস্বরূপ (হিতোপদেশ ১৭:৬ পদ), ঈশ্বর বন্ধ্যা স্ত্রীলোকদের ছেলেমেয়ে দিয়ে আশীর্বাদ করেন (গীতসংহিতা ১১৩:৯; আদিপুস্তক ২১:১-৩; ২৫:২১-২২; ৩০:১-২; ১শমূয়েল ১:৬-৮; লূক ১:৭, ২৪-২৫ পদ)। ঈশ্বর মায়ের জঠরে সন্তানদের গঠন করেন (গীতসংহিতা ১৩৯:১৩-১৬ পদ)। জন্মগ্রহণ করার আগে থেকেই ঈশ্বর ছেলেমেয়েদের জানেন (যিরমিয় ১:৫; গালাতীয় ১:১৫ পদ)।

পবিত্র বাইবেলের আদিপুস্তক ৩৮ অধ্যায়টিতে জন্মনিয়ন্ত্রণ বিষয়টিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করে যিহূদার দুই ছেলে এর ও ওনন’র কথা বলা হয়েছে। এখানে দেখা যায় যে, এর তামর নামক একজন মহিলাকে বিয়ে করলেন, কিন্তু সে ছিল দুষ্ট প্রকৃতির, তাই ঈশ্বর তার কোন সন্তান না হতেই তাকে মেরে ফেললেন। এর’র ছোট ভাই ওনন যেন তামরকে বিয়ে করে সেজন্য তাকে তামরকে তাকে দেওয়া হলো। দ্বিতীয় বিবরণ ২৫:৫-৬ পদের আলোকে দেখা যায় যে, ওনন তামরকে বিয়ে করতে এক রকম বাধ্যই ছিলো। ওনন অন্য কোন সন্তানের মধ্যে তার উত্তরাধিকারের বীজ রাখতে চাইল না; যাতে সে তার ভাইয়ের পক্ষে তামরের গর্ভে সন্তান উৎপাদন করতে পারে, তাই সে জন্মনিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে পুরানো পদ্ধতি (মাটিতে বীযপাত) ব্যবহার করলো। আদিপুস্তক ৩৮:১০ পদ একথা বলে, “কিন্তু তার (ওননের) এই ব্যবহারে সদাপ্রভু অসন্তুষ্ট হলেন। সেইজন্য তাকেও তিনি আর বাঁচতে দিলেন না।” ওননের ইচ্ছা বা মনোভাব ছিল স্বার্থপরতায় ভরপুর: সে শুধুমাত্র নিজের আনন্দলাভের জন্যই তামরকে ভোগ করলো, কিন্তু সে তার মৃত ভাইয়ের বংশ রক্ষার জন্য কোন কর্তব্য পালন করতে অস্বীকার করলো। প্রায়ই এই অনুচ্ছেদটিকে ঈশ্বর যে জন্মনিয়ন্ত্রণকে অনুমোদন করেন না তার সম্পূরক বিষয় হিসাবে ব্যবহার করা হয়। যাহোক, প্রভু ওননকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দিলেন এই কারণে নয় যে, সে জন্মনিয়ন্ত্রণজনিত অপরাধ করেছে, কিন্তু সে মারা গেল তার এরূপ কাজের পিছনে থাকা স্বার্থপরতাপূর্ণ মনোভাবের কারণে।

জগৎ আমাদের যেভাবে বলে সেভাবে নয়, কিন্তু ঈশ্বর স্বয়ং সন্তানদের প্রতি তাঁর দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখেন বলেই তাদের দেখাশুনা করা এত বেশী গুরুত্বপূর্ণ। বলা যায় যে, বাইবেল জন্মনিরোধককে নিষেধ করে না। সংজ্ঞার বিচারে গর্ভনিরোধক পদ্ধতি হলো কেবলমাত্র গর্ভধারণ বিষয়টির বিপরীতমুখী অবস্থা। এটি নিজেই গর্ভনিরোধক ব্যবস্থার কোন কাজ নয় যা এটি ঠিক না ভুল তা নির্ধারণ করে থাকে। ওননের কাছ থেকে আমরা শিখেছি- এটি হলো গর্ভনিরোধক ব্যবস্থার পিছনে থাকা একটি প্রেরণা বা ইচ্ছা যা এটি ঠিক না ভুল তা নির্ধারণ করে। কোন বিবাহিত দম্পতি যদি শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থে এই ব্যবস্থার চর্চা করে তাহলে তা হবে একটি ভুল কাজ। আবার অনেক দম্পতি তারা যতক্ষণ না আরও বেশী পরিণত হয় এবং অর্থনৈতিক ও আত্মিকভাবে প্রস্তুত হয় ততক্ষণ তারা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে। এটি যদি তারা সাময়িকভাবে ব্যবহার করে তাহলে তা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে। আবারও বলি, এর সব কিছুই প্রেরণা বা ইচ্ছাশক্তির কাছ থেকে আসে।

পবিত্র শাস্ত্র সব সময় ছেলেমেয়েদের উত্তম বলে উল্লেখ করেছে। বাইবেল “প্রত্যাশা করে” যেন যারা স্বামী-স্ত্রী তাদের প্রত্যেকের ছেলেমেয়ে থাকে। ছেলে বা মেয়ে জন্মদানের অক্ষমতাকে বা ছেলেমেয়ে না থাকাকে বাইবেলে সব সময় একটি খারাপ বিষয় বা অভিশাপ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাইবেলের মধ্যে এমন কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাবে না যে ছেলেমেয়ে না পাওয়ার আকাঙ্খা ব্যক্ত করেছে। একই সাথে বাইবেল হতে প্রাপ্ত এই বিষয়ের যুক্তি প্রদর্শন করতে পারা যায় না যে, অল্প সময়ের জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ কোন ভুল কাজ নয়। বিবাহিত দম্পতিদের উচিত কখন তাদের ছেলেমেয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত এবং কতজন ছেলেমেয়ে তারা চায় তার জন্য ঈশ্বরের ইচ্ছা বা পরিকল্পনার খোঁজ করা।



বাংলা হোম পেজে ফিরে যান



জন্মনিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ে বাইবেল কী বলে? খ্রীষ্টিয়ানদের কী জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত?