দশ আজ্ঞাগুলো কী কী?



প্রশ্ন: দশ আজ্ঞাগুলো কী কী?

উত্তর:
পবিত্র বাইবেলে উল্লেখিত দশ আজ্ঞা হচ্ছে দশটি আইন যা ঈশ্বর ইস্রায়েল জাতি মিসর থেকে যাত্রা করার পর তাদের দিয়েছিলেন। দশ আজ্ঞা হচ্ছে পুরাতন নিয়মে উল্লেখিত ৬১৩টি আজ্ঞা বা আদেশের একটি সমষ্টিগত অবস্থা। প্রথম চারটি আজ্ঞার মধ্যে ঈশ্বরের সাথে আমাদের সম্পর্কের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে এবং শেষের ছয়টি আজ্ঞার মধ্যে অন্য লোকদের সাথে আমাদের সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে। পবিত্র বাইবেলের যাত্রা পুস্তক ২০:১-১৭ এবং দ্বিতীয় বিবরণ ৫:৬-২১ পদের মধ্যে দশ আজ্ঞাগুলো লিপিবদ্ধ আছে। এগুলো নিম্নরূপ:

১) “আমার জায়গায় কোন দেব-দেবতা দাঁড় করাবে না” (যাত্রাপুস্তক ২০:৩ পদ)। একমাত্র সত্য ঈশ্বর ছাড়া অন্য কোন দেবতার পূজা বা উপাসনা করার বিপক্ষে এই আদেশটি প্রদান করা হয়েছে। ঈশ্বর ছাড়া অন্য যে সব দেব-দেবতা আছে তারা সবাই মিথ্যা দেব-দেবতা।

২) “পূজার উদ্দেশ্যে তোমরা কোন মূর্তি তৈরী করবে না, তা আকাশের কোন কিছুর মত হোক বা মাটির উপরকার কোন কিছুর মত হোক কিংবা জলের মধ্যেকার কোন কিছুর মত হোক। তোমরা তাদের পূজাও করবে না, তাদের সেবাও করবে না, কারণ কেবলমাত্র আমি সদাপ্রভুই তোমাদের ঈশ্বর। আমার পাওনা ভক্তি আমি চাই। যারা আমাকে ঘৃণা করে তাদের পাপের শাস্তি আমি তাদের তৃতীয় ও চতুর্থ পুরুষ পযন্ত দিয়ে থাকি। কিন্তু যারা আমাকে ভালবাসে এবং আমার সমস্ত আদেশ পালন করে, হাজার হাজার পুরুষ পযন্ত তাদের প্রতি আমার বুক ভরা দয়া থাকবে” (যাত্রাপুস্তক ২০:৪-৬ পদ)। এই আজ্ঞাটিতে কোন মূর্তি অর্থাৎ ঈশ্বরের প্রতিনিধিরূপে দৃশ্যমান কোন মূর্তি বা প্রতিমা তৈরী করার বিরুদ্ধে উচ্চারিত একটি আজ্ঞা। আমরা এমন কোন মুখচ্ছবি তৈরী করতে পারি না যা নির্ভুলভাবে বা নিখুঁতভাবে ঈশ্বরের মুখের ছবি বা তাঁর কোন প্রতিকৃতি উপস্থাপন করে। ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসাবে কোন মূর্তি তৈরী করা হলো মিথ্যা দেবতার উপাসনা করার মত একটি বিষয়।

৩) “কোন বাজে উদ্দেশ্যে তোমরা তোমাদের ঈশ্বর-সদাপ্রভুর নাম নেবে না। যে তা করবে সদাপ্রভু তাকে শাস্তি দেবেন” (যাত্রাপুস্তক ২০:৭ পদ)। এই আদেশ বা আজ্ঞাটি হচ্ছে অযথা বা অনর্থক ঈশ্বরের নাম মুখে নেবার বিরুদ্ধে। আমরা অবশ্যই হালকাভাবে কিংবা কোন বিশেষ কারণ ব্যতীত ঈশ্বরের নাম নেব না। আমাদের অবশ্যই শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে এবং সম্মানজনক উপায়ে ঈশ্বরকে নির্দেশ করার মধ্য দিয়ে তাঁর প্রতি আমাদের গভীর ভক্তি প্রকাশ করতে হবে।

৪) “বিশ্রামবার আমার উদ্দেশ্যে আলাদা করে রাখবে এবং তা পালন করবে। সপ্তার ছয় দিন তোমরা পরিশ্রম করবে এবং তোমাদের সমস্ত কাজ করবে, কিন্তু সপ্তম দিনটা হল তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর উদ্দেশ্যে বিশ্রামের দিন। সেই দিন তোমরা তোমাদের ছেলেমেয়ে, তোমাদের দাস-দাসী, তোমাদের পশু বা তোমাদের শহর ও গ্রামে বাস করা অন্য জাতির লোক, মোটকথা, কারও কোন কাজ করা চলবে না। সদাপ্রভু ছয় দিনে মহাকাশ, পৃথিবী, সমুদ্র এবং সেগুলোর মধ্যেকার সব কিছু তৈরী করেছিলেন, কিন্তু সপ্তম দিনে সেই কাজ আর করেন নি। সেইজন্য তিনি এই বিশ্রাম দিনটাকে আশীর্বাদ করে তাঁর নিজের জন্য আলাদা করেছিলেন” (যাত্রাপুস্তক ২০:৮-১১ পদ)। এই আজ্ঞাটিতে বিশ্রামবারকে (শনিবার, সপ্তাহের শেষ দিন) সদাপ্রভুর প্রতি উৎসর্গীকৃত দিন হিসাবে আলাদা করে রাখার কথা বলা হয়েছে।

৫) “তোমাদের মা-বাবাকে সম্মান করে চলবে। তাতে তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর দেওয়া দেশে তোমরা অনেক দিন বেঁচে থাকবে” (যাত্রাপুস্তক ২০:১২ পদ)। এই আজ্ঞাটিতে সব সময়ের জন্য মা-বাবার সাথে সম্মান ও শ্রদ্ধার সাথে আচরণ করার কথা বলা হয়েছে।

৬) “খুন কোরো না” (যাত্রাপুস্তক ২০:১৩ পদ)। এই আজ্ঞাটি হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে অন্য কোন মানবসন্তানকে খুন করার বিরুদ্ধে বলা একটি আদেশ।

৭) “ব্যভিচার কোরো না” (যাত্রাপুস্তক ২০:১৪ পদ)। এটি হচ্ছে নিজের স্ত্রী/স্বামী ব্যতীত অন্য কারও স্ত্রী/স্বামীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার বিরুদ্ধে প্রদত্ত আদেশ।

৮) “চুরি কোরো না” (যাত্রাপুস্তক ২০:১৫ পদ)। যা কারো নিজের নয় তা যার তার অনুমতি ব্যতীত নেয়ার বিরুদ্ধে এই আদেশটি করা হয়েছে।

৯) “কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ো না” (যাত্রাপুস্তক ২০:১৬ পদ)। এই আজ্ঞাটিতে মিথ্যাভাবে বা ছলনা করে অন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কিছু সাক্ষ্য দিতে নিষেধ করা হয়েছে। অত্যাবশ্যকভাবে এটি হচ্ছে মিথ্যা বলার বিরুদ্ধে দেওয়া একটি আদেশ বা আজ্ঞা।

১০) “অন্যের ঘর-দুয়ার, স্ত্রী, দাস-দাসী, গরু, গাধা কিংবা আর কিছুর উপর লোভ কোরো না” (যাত্রাপুস্তক ২০:১৭ পদ)। এই আজ্ঞাটি হচ্ছে যা আমার নিজের নয় তার জন্য কামনা বা আকাঙ্খা করার বিরুদ্ধে উচ্চারিত একটি আদেশ। খুবই ভীষণভাবে কামনা বা লোভ করা উপরে উল্লেখিত আদেশগুলোর মধ্যে খুন করা, ব্যভিচার করা এবং চুরি করার বিষয়ে নিষেধ করার আদেশ ভেঙ্গে ফেলতে বা অমান্য করতে আমাদের পরিচালনা প্রদান করতে পারে। এরূপ কোন কিছু করা যদি ভুল হয় তাহলে কোন কিছু করতে চাওয়া বা কামনা করাও ভুল বিষয় হয়ে পড়ে।

এমন অনেক লোক আছেন যারা এই দশ আজ্ঞাকে ভুলভাবে নিয়ম-কানুনের একটি আধার হিসাবে এর প্রতি মনোযোগ দিয়ে থাকেন এবং ভাবেন যে, যদি এগুলো অনুসরণ করা হয় তাহলে মৃত্যুর পর স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করার নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে। বিপরীতভাবে, এই দশ আজ্ঞাগুলোর উদ্দেশ্য হলো লোকদের এটি বুঝতে বাধ্য করানো যে, তারা নিখুঁতভাবে আইন-কানুন বা বিধি-নিয়ম মেনে চলতে পারে না (রোমীয় ৭:৭-১১ পদ), আর তাই তাদের প্রয়োজন ঈশ্বরের দয়া ও অনুগ্রহ। মথি ১৯:১৬ পদে উল্লেখিত ধনী যুবকটির অবজ্ঞা বা অবহেলার কথা উল্লেখ করে বলা যায় যে, কেউ-ই নিখুঁতভাবে এই দশ আজ্ঞাগুলো মেনে চলতে পারে না (উপদেশক ৭:২০ পদ)। দশ আজ্ঞাগুলো এই প্রমাণ দেয় যে, আমরা সবাই পাপী (রোমীয় ৩:২৩ পদ), আর তাই আমাদের প্রয়োজন ঈশ্বরের কৃপা বা করুণা ও অনুগ্রহ যা কেবলমাত্র যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাসের মধ্য দিয়েই পাওয়া যায়।



বাংলা হোম পেজে ফিরে যান



দশ আজ্ঞাগুলো কী কী?